
by James Allen
১. মানুষের চিন্তার প্রভাব এতটাই ব্যাপক যে তা মানুষের জীবনের প্রত্যেকটি দিককে ব্যাপৃত করে।
“but is so comprehensive as to reach out to every condtition and circumstance of his life.”
মানুষের প্রত্যেকটি কাজ—হোক তা সুচিন্তিত, পরিকল্পনামাফিক কৃত কাজ কিংবা হুটহাট, অনভিপ্রেত—চিন্তার সুপ্ত বীজ থেকে উৎসারিত।
২. মানুষের সকল উন্নতি ও অবনতি চিন্তার বদৌলতেই। মানুষের দিব্য পবিত্রতাসম্পন্নতায় উন্নীত হোক কিংবা পশুর কাতারে নেমে আসুক—তা সবটাই ‘নিজস্ব’ চিন্তার মাধ্যমেই।
৩. মানুষের মনোজগত হচ্ছে অনেকটা বাগিচাতুল্য—যাকে নয়নাভিরাম করে গড়ে তোলা কিংবা আগাছায় পূর্ণ করা সবটুকুই মানুষের “নিজের” কর্তৃত্ব। যদি এই বাগানের মাটিতে উত্তম বীজ বপন না করা হয় তবে স্বাভাবিকভাবেই সেখানে অপ্রয়োজনীয় আগাছা গড়ে উঠবে। একইভাবে মানুষ যদি নিজের মনোজগতকে সুন্দর, উপকারী চিন্তা দিয়ে না সজ্জিত করে, স্বাভাবিকভাবেই সেকি জায়গাটা আগাছাসদৃশ অপ্রয়োজনীয়, বাজে চিন্তা দ্বারা পূর্ণ হবে।
৪. মানুষের চিন্তা আর আচার-আচরণ, চরিত্র আসলে এক ও অভিন্ন জিনিসের নাম। একটা ভেতরের দিক, আরেকটা বাহিরের দিক। বাহিরের দিকটা সর্বদাই ভেতরটাকে অনুসরণ করে।
“the outer conditions of a person’s life will always be found to be harmoniously related to his inner state”
৫. মানুষের হৃদয়ভূমিতে চিন্তার যেই বীজ-ই ফেলানো হোক না কেন তা দিনশেষে মানুষের বাহ্যিক অবস্থাদির রূপে পত্রপল্লবে সজ্জিত হয়ে ফুটে বেরিয়ে আসবেই। মানুষ যেমন ও যে ধরণের চিন্তাকে হৃদয়ের গহীনে লালন করবে, পেলে-পুষে বড় করবে সেইরকম বাহ্যিক অবস্থাই সে তার জীবনে দেখতে পাবে। দুর্জন ব্যক্তির অধঃপতিত অবস্থা কিংবা সজ্জন ব্যক্তির হৃদয়ের প্রশান্তি—সবটাই দীর্ঘদিন যাবত অন্তরে পালিত চিন্তারই বহিঃপ্রকাশ, ভেতরের চিন্তার বাহিরের রূপ মাত্র। জীবনের নানাবিধ অবস্থা আসলে মানুষকে তৈরী করে না, তা কেবল মানুষের সামনে নিজের অবস্থা ব্যক্ত করে।
“Circumstance does not make tha man; it reveals him to himself. Men do not attract that which they want, but that which they are.”
৬. মানুষের সকল দুর্ভোগ আসলে কোনো না কোনো ভুলভাল চিন্তার ফসল। তার মানে দুঃখ, দুর্দশা, দুর্ভোগ আর বিপদাপদ = মানসিক বৈভারসাম্য (mental disharmony)। আর দুর্ভোগের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে চিন্তার এসকল জঞ্জালকে ধুয়ে মুছে সাফ করে ফেলা, সকল অশুচিতাকে পুড়িয়ে দেওয়া খাঁটি করা।
৭. চিন্তা কোনো না কোনোভাবে নিজেকে প্রকাশিত করবেই। চিন্তাকে গোপন করা যায় না। আর তাই চিন্তা না বদলে শুধু বাহ্যিক অবস্থা বদলে খুব একটা লাভ নেই। চিন্তা বদলালে বাহিরের অবস্থাও পরিবর্তন হবেই হবে।
“The world is your is kaleidoscope, and the varying combinations of colous which at every succeeding moment it presents to you are the exquisitely adjusted pictures of your ever-moving thoughts.”
৮. সুস্থ ও ইতিবাচক চিন্তার প্রভাব শরীরে যেয়েও পড়ে।
“There is no physician like cheerful thougt for dissipating the ills of the body; there is no comforter to compare with goodwill for dispersing the shadows of grief and sorrow.”
৯. চিন্তা অবশ্যই জীবনের বৃহত্তর “উদ্দেশ্যের” সাথে সংযুক্ত হতে হবে। এই উদ্দেশ্যই হবে তার জীবনবিধান, তার জীবনের মূল লক্ষ্য। একে অর্জন করার জন্যই ব্যয় হবে তার জীবনের সিংহভাগ।
“Those who have no central purpose in their life fall an easy prey to petty worries, fears, troubles, and self-pitiyings”
১০. মানুষের উন্নতির একটাই রাজপথ—নিজের চিন্তাকে পরিশুদ্ধ করা। এর জন্য চাই নিজের মাঝে খোঁজা, নিজেকে চেনা, ধৈর্যসহকারে নিজের চিন্তা পরিশুদ্ধির জন্য নিরন্তর চেষ্টা-সাধনা করতে থাকা।
“All achievements, whether in the business, intellectual, or spiritual wordl, are te result and definitely directed thought, are governed by the same law and are the same method; the only difference lies in the object of attainment.”