
by Harry G. Frankfurt
বাকওয়াজি এমন একটি বিষয় যা আমাদের চারপাশে প্রচুর দেখা গেলেও এ নিয়ে খুব বেশি তাত্ত্বিক বা নিয়মতান্ত্রিক আলোচনা নেই। ফলে “বাকওয়াজি” আসলে কী—তা নিয়ে আমাদের ধারণা প্রায়ই অস্পষ্ট।
বিজ্ঞাপন, জনসংযোগ এবং রাজনীতির জগতে বাকওয়াজির ব্যবহার এতটাই ব্যাপক যে এটি এক ধরনের ক্লাসিক উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
“Never tell a lie when you can bullshit your way through”
মিথ্যা হলো সত্যের সরাসরি বিপরীত বক্তব্য—যেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে সত্যকে বিকৃত করা হয়।
অন্যদিকে বাকওয়াজি হলো এমন এক ধরনের বক্তব্য, যেখানে সত্য বা মিথ্যার প্রতি কোনো গুরুত্বই দেওয়া হয় না।
মিথ্যাবাদী সত্য সম্পর্কে জানে এবং সেটাকে বিকৃত করে। কিন্তু বাকওয়াজি করা ব্যক্তি সত্য সম্পর্কে মাথা ঘামায় না—সে শুধু কথা বলে যায়।
মিথ্যা সাধারণত মানুষের কাছে বিরক্তিকর ও অসহনীয়, কিন্তু বাকওয়াজি তুলনামূলকভাবে সহনীয়—যদিও সেটিও ক্ষতিকর।
মিথ্যা বলার জন্য দক্ষতা প্রয়োজন, কারণ সেখানে সত্যকে বুঝে সেটাকে বিকৃত করতে হয়। কিন্তু বাকওয়াজির ক্ষেত্রে এই বোধের প্রয়োজন নেই।
মিথ্যাবাদীর উদ্দেশ্য থাকে মানুষকে বিভ্রান্ত করা (misrepresentation), তাই সে নিজের অভিপ্রায় গোপন রাখে।
কিন্তু বাকওয়াজি করা ব্যক্তি সত্যকে উপস্থাপন বা গোপন করার কোনো চিন্তাই করে না—তার কাছে সত্যের কোনো মূল্যই নেই।
এই কারণেই বলা যায়—
“সত্যের জন্য মিথ্যার চেয়েও বাকওয়াজি বড় শত্রু”