
by Byung-Chul Han, Erik Butler
একসময় মানুষের প্রধান শত্রু ছিল বাহ্যিক—ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, সংক্রমণ। কিন্তু আধুনিক যুগে সেই লড়াই অনেকটাই শেষ। এখন মানুষের সবচেয়ে বড় সংকট বাহ্যিক নয়, বরং অভ্যন্তরীণ।
আজকের যুগ হচ্ছে “স্নায়বিক যুগ”—যেখানে মানুষ নিজেই নিজের ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে। সমস্যা আর বাইরে থেকে আসে না, বরং নিজের সিস্টেমই নিজের বিরুদ্ধে কাজ করে।
এটি আর “নেতিবাচকতার যুগ” নয়, বরং “অতিরিক্ত ইতিবাচকতার যুগ”—যেখানে কোনো বাধা নেই, কোনো নিষেধ নেই, সবাই সবকিছু করতে চায়।
আজকের সমাজ আর আগের মতো disciplinary society নয়। এটি এখন achievement society—যেখানে অর্জনই প্রধান লক্ষ্য।
এই সমাজ মানুষকে শাসন করে না, বরং তাকে নিজের ইচ্ছায় কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে মানুষ নিজেই নিজেকে শোষণ করে।
“মানুষ নিজেই শিকার, আবার নিজেই শিকারী”
এই অবস্থা থেকে জন্ম নেয় হতাশা, ক্লান্তি এবং এক ধরনের মানসিক পরাজয়।
আধুনিক মানুষ multitasking-কে দক্ষতা মনে করে। কিন্তু বাস্তবে এটি মনোযোগকে বিভক্ত করে এবং গভীর চিন্তার ক্ষমতা নষ্ট করে।
প্রাণীরা বেঁচে থাকার জন্য একাধিক কাজ একসাথে করে, কিন্তু মানুষ যদি একই কাজ করে, তবে সে তার চিন্তার গভীরতা হারিয়ে ফেলে।
ফলে contemplative বা গভীর চিন্তার জায়গা দখল করে নেয় hyperattention—অর্থাৎ অতিরিক্ত মনোযোগের চাপ।
এই অতিরিক্ত তথ্য, উদ্দীপনা এবং কাজের চাপ মানুষের মনকে ক্রমাগত ব্যস্ত রাখে, কিন্তু তাকে শান্ত বা গভীর করে না।