
by Leo Tolstoy
এই উপন্যাসটি তলস্তয়ের রূপান্তরের পরবর্তী সময়ের লেখা (১৮৮৬)। তাঁর Confessions-এ যে আত্মিক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যায়, এই রচনাটি তারই প্রতিফলন।
বঙ্গানুবাদক প্রফুল্ল চক্রবর্তী অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপন্যাসটির সারমর্ম তুলে ধরেছেন—
“অন্তরঙ্গ প্রিয়-পরিজনের সান্নিধ্যেও মহাত্রস্ত মানুষ নিঃসঙ্গ... সবাই আমরা ভবিষ্যতের ইভান ইলিচ।”
গল্পের শুরু হয় ইভান ইলিচের মৃত্যু দিয়ে। অথচ আশেপাশের মানুষজন—সহকর্মী, স্ত্রী, বন্ধুবান্ধব—কেউই গভীরভাবে শোকাহত নয়। বরং তারা নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত।
ফ্ল্যাশব্যাকে আমরা দেখি, ইভান প্রথমে একজন সাধারণ কর্মচারী ছিলেন। বিবাহের প্রথম দিকে সংসার ভালো চললেও ধীরে ধীরে স্ত্রীর সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
স্ত্রীর সাথে বিরোধের কারণে তিনি ঘরের চেয়ে বাইরের জগতে বেশি স্বস্তি খুঁজতে থাকেন। সামাজিক মর্যাদা, পদোন্নতি এবং অর্থলিপ্সা তার জীবনের প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে।
সবকিছু ঠিকঠাক চললেও হঠাৎ অসুস্থতা তাকে গ্রাস করে। চিকিৎসা সত্ত্বেও তিনি বুঝতে পারেন—মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী।
এই উপলব্ধির পর শুরু হয় তার গভীর আত্মসমালোচনা। তিনি নিজেকে প্রশ্ন করেন—
“আমি কি সত্যিই সঠিকভাবে জীবন যাপন করেছি?”
তিনি বুঝতে পারেন, তার জীবন অনেকটাই ছিল ভান, আত্মপ্রবঞ্চনা এবং সামাজিক দেখনদারিতে ভরা।
এরপর শুরু হয় তীব্র মানসিক যন্ত্রণা। তিনদিন ধরে তিনি এক ভয়াবহ কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে থাকেন—যেন এক অন্ধকার গহ্বরে পতিত হচ্ছেন।
কিন্তু সেই অন্ধকারের শেষে তিনি দেখতে পান আলো।
শেষ মুহূর্তে তার মধ্যে এক গভীর পরিবর্তন ঘটে। চারপাশের মানুষের প্রতি তার মনে জন্ম নেয় সহানুভূতি, মমতা এবং ক্ষমা।
মৃত্যুকে আর ভয়ংকর মনে হয় না। বরং তিনি উপলব্ধি করেন—
“মৃত্যুকে মেনে নেওয়াতেই রয়েছে পরম শান্তি।”
শেষ মুহূর্তে তার অন্তরে ভেসে ওঠে এক অনুভূতি—
“মৃত্যু নেই—আছে শুধু আলো... কী শান্তি!”
তারিখ: ২৬ মার্চ, ১৮৮৬।